fbpx
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

মায়ের সঙ্গে মহেশখালী ভ্রমণ

অনলাইন
  • আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৯ বার পঠিত
NAN TV

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে আগেও এসেছি; তবে এবারের ভ্রমণসঙ্গী মা। মূলত মাকে নিয়েই এবারের ভ্রমণ। কক্সবাজারের ছয় নম্বর ঘাট থেকে সকাল ১০টায় স্পিডবোটে উঠি। যাত্রী ১২ বা ১৩ জন। ভাড়া ১০০ টাকা করে। 

কিছুটা চলার পর বাকখালী চ্যানেল শেষ। এর পর বঙ্গোপসাগরের মোহনা। এর পর আবার মহেশখালী চ্যানেল। দ্রুত চলায় সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে স্পিডবোট মাঝেমধ্যে জাম্প করে। যেন ঢেউয়ের ওপর দিয়ে স্পিডবোট উড়ে চলছে। মাঝেমধ্যে ঢেউয়ের সঙ্গে ঠাণ্ডা পানির ছিটাও গায়ে এসে লাগে। তখন দারুণ এক রোমাঞ্চ কাজ করে। ১৫ মিনিটের মাথায় বোট থামে আদিনাথ জেটিতে।

বেশ উঁচু এ জেটি। সাগরের পানি বাড়লে যাতে জেটি ডুবে না যায়, সে জন্যই এত উঁচু। জেটিতে দাঁড়িয়ে ডানে-বামে তাকালে দেখা মেলে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন। বন কিছুটা সুন্দরবনের মতো দেখতে। এ বনের ওপর দিয়েই জেটি থেকে আদিনাথ মন্দির পর্যন্ত পাকা সেতু বা পথ। 

এ পথের দুপাশেই ম্যানগ্রোভ বন। পথটি প্রায় বনের গাছের সমান উঁচু। দুপাশে গাছগাছালির মধ্যে আছে সুন্দরী, গড়ান, গোলপাতাসহ লোনাপানির গাছ। জেটি থেকে আদিনাথ মন্দির পর্যন্ত অটোরিকশা আছে, তবে আমরা হেঁটেই চলছি।

প্রায় ১০ মিনিটের মাথায় চলে আসি আদিনাথ মন্দিরের সম্মুখে। মন্দির গেটের বাইরে দুপাশে নানা পণ্যের দোকান। কিছু দোকানের সামনে মাটির পাত্রে লাল জবাফুল, কমলা, শসা, বেল, কলাসহ নানা ফলমূল সাজানো। মূলত মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীরা প্রার্থনার জন্য ফলমূল সাজানো এ পাত্র কিনেন। এ ছাড়া গেটের দুপাশে আছে আদিবাসী রাখাইনদের তাঁতে বোনা সালোয়ার-কামিজ, লুঙ্গি, শাল, ওড়না, গামছা, রুমালসহ বিভিন্ন তাঁতসামগ্রীর দোকান। আছে চা-নাশতা ও ডাবের দোকান। অধিকাংশ দোকানে রাখাইন নারী; কিছু দোকানে পুরুষ।


অনেক সিঁড়ি বেয়ে আসার পর মন্দিরের গেট। এ গেটের বাম পাশ দিয়ে আরেকটি সিঁড়ি উঠে গেছে পাহাড়ের দিকে। আমরা মন্দিরে প্রবেশ না করে সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠি। পাহাড়ে ওঠার এ সিঁড়ির বাম পাশেও অনেক দোকান। এসব দোকান সাজানো রাখাইনদের তাঁত পণ্য দিয়ে।


উঁচু সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠতে মায়ের একটু কষ্ট হয়েছে। তবে ওঠার পর ভালোও লেগেছে। পাহাড়ের নাম মৈনাক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আদিনাথ মন্দিরের উচ্চতা ২৮৮ ফুট। সে হিসেবে এ পাহাড় চূড়ার উচ্চতা আরও বেশি। 

গাছগাছালিতে ছায়া এ পাহাড়ের এ চূড়ায় আছে একটি বৌদ্ধ মন্দির। গোলাকৃতির এ মন্দির নিচ থেকে ওপরের দিকে সরু হয়ে উঠে গেছে, অনেকটা উল্টো পিরামিডের মতো। 

এছাড়া চার কোণায় চারটি সিংহের মূর্তি দাঁড়িয়ে। এখানে থাকতে থাকতেই আমাদের সঙ্গে যোগ দেন কবি বন্ধু সাইয়্যিদ মঞ্জু। তিনি মহেশখালীর স্থানীয় লোক। এ কবির একাধিক কবিতা পড়ার সুযোগ হয়েছে। তার কবিতায় সমুদ্রের নানা রূপ-বৈচিত্র্য দেখেছি। কবিসহ কিছুক্ষণ ঘুরে নেমে আসি আদিনাথ মন্দিরে।

প্রাচীন এ মন্দিরের সম্মুখে স্থাপিত পটভূমি থেকে জানি, ঐতিহাসিকরা মনে করেন মন্দিরের বর্তমান অবকাঠামো ষোড়শ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েক হাজার বছর আগে ক্রেতাযুগে এ মন্দিদের গোড়াপত্তন বলে উল্লেখ আছে। এছাড়াও এ মন্দির প্রতিষ্ঠার নানা ইতিহাস রয়েছে। 

স্থানীয়দের কাছে এটি স্বর্ণমন্দির নামেও পরিচিত। এ মন্দিরটিও বেশ প্রাচীন। এর ভেতর একাধিক বৌদ্ধমন্দির আছে। এখানে একাধিক বুদ্ধমূর্তি আছে। এ ছাড়া মন্দির প্রাঙ্গণে একটি পুকুর আছে। পুকুরটির মাঝে সাপের ফণা তুলে বুদ্ধমূর্তি আছে।

মন্দিরের পাশেই এ হোটেল। দুপুরের খাবার খাই এখানে। সামুদ্রিক মাছ ও সবজি দিয়ে; এর পর চা। সাইয়্যিদ মঞ্জুকে বিদায় দিয়ে আমরা উঠি অটোরিকশায়। আসার সময় আদিনাথ জেটি দিয়ে এলেও যাচ্ছি মহশেখালী জেটি দিয়ে। এ জেটিও আদিনাথ জেটির সমান। জেটিতে দেখি একজন পান বিক্রি করছেন। পানের ওপর কালারফুল সব মসলা ছিটানো। দেখতেই দারুণ লাগছে। আসলে মহেশখালীর পানের সুনাম রয়েছে দেশ-বিদেশ। 

হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে বিকালে বের হই। আসি সুগন্ধা সৈকতে; চা খাই সৈকতপাড়ের টি-স্টল থেকে। সূর্যাস্ত দেখার জন্য সৈকতে মানুষের বেশ ভিড়। সময় কাটানোর জন্য আমরা মা-ছেলে সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে ঝালমুড়ি আর বাদাম খাই। 


সূর্যাস্ত দেখা হলে সৈকতপাড়ে ঝিনুক মার্কেটে আসি, মা কিছু উপহারসামগ্রী কিনেন। এর পর শুঁটকি মার্কেট। শুঁটকি মার্কেটের সামনে এক মহিলা ফুটপাতে বসে চালপিঠা বিক্রি করছেন। 

শুঁটকিসহ বার্মিজ চকোলেট, আচার, বাদাম কিনে ফিরে আসি হোটেলে।

তিন দিনের এ ভ্রমণে প্রথম দিন লাবণী সৈকত থেকে হাঁটা শুরু করে সুগন্ধা হয়ে কলাতলী পর্যন্ত যাই। তবে সুগন্ধা সৈকতে বেশি সময় কাটাই। বাকি দিনও এ সৈকতেই কেটেছে বেশিরভাগ সময়। এ ছাড়া একদিন অটোরিকশায় চেপে মেরিন ড্রাইভ ধরে দরিয়ানগর, হিমছড়ি হয়ে ইনানি সৈকত পর্যন্ত ঘুরি। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর...

এনএএন টিভি লাইভ

%d bloggers like this: